শীতের বিকেলগুলো একটু কেমন যেন। খুব নিঃসঙ্গ আর একাকীত্তে ভরা। ভীষণ খারাপ লাগা এক একটি মুহূর্ত। আমি খুব সচেতনভাবেই লক্ষ্য করেছি, গ্রীস্মের বিকেলগুলোর চাইতে শীতের বিকেলগুলোতে কেন জানি বেশি অতীতকে মনে পড়ে। সেই কোথায় কবে কোন ছেলেবেলায় মামা বাড়ির দারোয়ান জহু মোল্লার সাথে শুক্রবারের হাঁটে গিয়ে গরম গরম জিলাপি খেয়েছি, সেই কথা এই এতদিন পর এসে, শীতের এই নিঃসঙ্গ বিকেলে কেন মনে পড়বে? কেন মনে পড়বে স্কুলে যাবার সময় রাস্তার ধারের সেই ছোট্ট খুপরির ভিতর থেকে বের হয়ে আসা আমার ক্লাসের সহপাঠী মোনাক্কার কথা? কত সকাল যে ও আর আমি হেঁটেছি ঐ পথে! হাটতে হাটতেই মাঝে মাঝে সিদ্ধান্ত পাল্টেছে আমাদের। এর জন্য অবশ্য আমিই একটু বেশি দায়ী ছিলাম। বকুল গাছতলায় ফুল কুড়ানোর জন্য ওকে যদি ঐভাবে টেনে না ধরতাম, তবে কি আর ঐ দিনের স্কুলটা কামাই যেত? কোন কোন বিকেলে অদ্ভুত জিদ চাপত মাথায়। আকাশ ছোঁয়ার জিদ। দূর দিগন্তে যেখানে আকাশ মাটিকে ছুঁয়ে ফেলেছে সেখানে গিয়ে আকাশ ছোঁয়ার জন্য কতদিন যে হাঁটা ধরেছি। শেষে ক্লান্ত হয়ে বিষণ্ণ মন নিয়ে বাড়ি ফিরেছি।
ঐ সবকিছুই আজ এই শিতের অবেলায় কেন এত মনে পরে পরে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি? আহা! কত রঙিনই না ছিল দিনগুলি। কত কিছুই না ছিল দিনগুলিতে। কাগজের ক্যামেরা ছিল। ম্যাচ বক্সের টেলিফোন ছিল। সিগারেটের বাক্সের টেলিভিশন ছিল। বাই-সাইকেলের টিউবের গুলতি ছিল। গাছের ডালের তৈরী বক পক্ষী ধরার ফাঁদ ছিল। মাছ ধরার ছিপ ছিল। শুক্রবারের জিলাপি ছিল। পথের ধারে মোনাক্কা ছিল।
আজ এই কিছুই না থাকার বিকেলে তাই কী এত করে সব ছিলগুলোর কথা মনে পরে অহেতুক মন কেমন জানি করে ওঠে? কী জানি, কে জানে!
ঐ সবকিছুই আজ এই শিতের অবেলায় কেন এত মনে পরে পরে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি? আহা! কত রঙিনই না ছিল দিনগুলি। কত কিছুই না ছিল দিনগুলিতে। কাগজের ক্যামেরা ছিল। ম্যাচ বক্সের টেলিফোন ছিল। সিগারেটের বাক্সের টেলিভিশন ছিল। বাই-সাইকেলের টিউবের গুলতি ছিল। গাছের ডালের তৈরী বক পক্ষী ধরার ফাঁদ ছিল। মাছ ধরার ছিপ ছিল। শুক্রবারের জিলাপি ছিল। পথের ধারে মোনাক্কা ছিল।
আজ এই কিছুই না থাকার বিকেলে তাই কী এত করে সব ছিলগুলোর কথা মনে পরে অহেতুক মন কেমন জানি করে ওঠে? কী জানি, কে জানে!